রহিমা ফুড

উৎপাদন শুরু করতে সিটি এডিবল অয়েলের সঙ্গে চুক্তি

বিনিয়োগকারীদের আর্থিক স্বার্থে বন্ধ থাকা রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড আবারো উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করছে।

বিনিয়োগকারীদের আর্থিক স্বার্থে বন্ধ থাকা রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড আবারো উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করছে। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটি সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেডের সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং (চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, চুক্তির আওতায় রহিমা ফুড বিদ্যমান বোতলজাত সক্ষমতা ব্যবহার করে সিটি এডিবল অয়েলের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করবে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে মেয়াদ শেষে চুক্তিটি আরো পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা যাবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাইয়ে নারকেল তেল উৎপাদন ইউনিট ও আগস্টে কাজুবাদাম প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বন্ধের ঘোষণা দেয় রহিমা ফুড। পরে ডিএসইর চিঠির জবাবে তারা জানায়, নারকেল তেল, কাজুবাদাম ও সয়াবিন-সরিষা তেল উৎপাদন কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু করার চেষ্টা করছে কোম্পানিটি।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রহিমা ফুডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২০ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৫২ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রহিমা ফুডের ইপিএস হয়েছে ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৪৩ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রহিমা ফুডের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৩৮ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রহিমা ফুডের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৩১ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাদে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রহিমা ফুড। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৫৩ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রহিমা ফুড। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২৯ পয়সায়।

রহিমা ফুড করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০০। এর ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৪২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও